Get 20% off on 1000 Sale
E-Commerce কী ?


ই-কমার্স কী ?
বর্তমান বিশ্বে আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় ব্যবসা ও বাণিজ্যের সুবিধার্থে আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য অবদান ই-কমার্স। ইলেকট্রনিক কমার্সকেই সাধারণ অর্থে ই-কমার্স (e-commerce or eCommerce) বলা হয়। ইন্টারনেট বা অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন ইত্যাদি কাজকে সম্মিলিতভাবে ই-কমার্স বলে। এটি প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার একটি প্যারালাল প্রক্রিয়া। প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থা পণ্য বা সেবা উভয়ের লেনদেন বা বেচাকেনা কে বুঝায়, ই-কমার্সও ঠিক একই রকম, কিন্তু সম্পূর্ণ কাজটা সম্পন্ন হয়ে থাকে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অর্থাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এটি একটি উভয়মুখী (Both Side) প্রক্রিয়া। ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ই-কমার্স ট্রানজেকশন / পণ্য কেনা বেচা সম্পন্ন হয়। ই-কমার্সের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে পারেন এবং তা তাদের দোরগোড়ায় সময় মত নিরাপদে গ্রহণ করতে পারেন। এর মাধ্যমে সময়, অর্থ এবং শ্রম উভয়েরই সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ই-কমার্স সম্ভাবনাময় পথ উন্মোচন করেছে।
পণ্য বা সেবার উপাদান, মার্কেটিং, ডেলিভারি, সার্ভিসিং, মূল্য পরিশোধের অনলাইন প্রক্রিয়াসমূহ সামগ্রিকভাবে ইলেকট্রনিক কমার্সের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৬০ সালে ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (EDI) এর মাধ্যমে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু হয়। ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে সাথে দ্রুত ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালে এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে অ্যামাজন ও ই-বে নামের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরুর মাধ্যমে ই-কমার্সের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ২০১০ সালের পরবর্তীতে মোবাইলের ব্যাপক প্রসারের সাথে সাথে ই-কমার্সের পালে নতুন করে হাওয়া লাগে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে। ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ই-কমার্সের মাধ্যমে কেনা-বেচা হয়, যার ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মোবাইলের মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে কেনা-বেচা হয়ে থাকে। এছাড়াও অনলাইন ট্রানজেকশন প্রসেসিং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার চালুর ভাগ অর্থ লেনদেনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ই-কমার্সের ওপর লোকজন অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ই-কমার্সের অভিরূপ জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো, daraz.com.bd, alibaba.com, amazon.com. ebay.com, Greenlife.com.bd
ই-কমার্স কিভাবে মানব শক্তি বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে ?
এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, বিকাশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাসায় বসে পণ্য বা সেবা ক্রয় বিক্রয় করার সুবিধা থাকায় বিক্রেতারা যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি ক্রেতাদেরও সরাসরি বাজারে গিয়ে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে না। প্রায় প্রতিবছর দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থনীতিতে ই-কমার্স খাতের অবদান। বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতে সম্ভাবনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এতে করে দেশের সমৃদ্ধি যেমন হবে বেকারত্ব ও দূরীভূত হবে। ই-কমার্সের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে এই সেক্টরে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যায় এবং তাদের কাজের সফলতা এবং উন্নতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি কর্মসংস্থানের কথা বলা হয় তাহলে ই-কমার্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিগত কয়েক বছরে ই-কমার্স অর্থনীতি সমৃদ্ধিতে যে পরিমাণ ভূমিকা পালন করছে তা অভাবনীয়। নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার মানুষের। এতে করে মানুষ আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে দিনে দিনে। বাংলাদেশে ই-কমার্স এর গুরুত্বপূর্ণ খাত গুলোর গ্রোথ দেখলে এই বিষয়টা বোধগম্য হবে। বাংলাদেশে ই-কমার্সের ঊর্ধ্বগতি দেখে বোঝা যায় ই-কমার্স অতিসত্বর আমাদের অর্থনীতিতে সিংহভাগ ভূমিকা রাখবে।
ই-কমার্সের ওপর নির্ভরতার কারণ কী ?
ই-কমার্স এর ওপর সবার নির্ভরতার অন্যতম কারণ হলো পণ্যের সহজলভ্যতা এবং পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বিশাল তথ্য। পণ্য সম্পর্কে কোনো কিছু না জেনে আমরা স্বশরীরে থেকেও সেই পণ্যটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করি না। আর এক্ষেত্রে যেহেতু প্রশ্ন অনলাইনে কেনাকাটার সেহেতু পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা খুবই জরুরী, যে সুবিধা আমরা ই-কমার্সের কাছ থেকে পেয়ে থাকি। এই নির্ভরযোগ্য বিশ্বাসের কারণেই মানুষ ই-কমার্স থেকে পণ্য বা সেবা নিয়ে থাকে। যেমনভাবে বিক্রেতারা তাদের পণ্যের সঠিক তথ্য দিয়ে থাকেন ঠিক তেমনি ভাবে ক্রেতা পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে সাছন্দ বোধ করেন। এতে করে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একটি আস্থাভাজন সম্পর্ক তৈরি হয়। এমন অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা জানিনা কিন্তু ই-কমার্স এর মাধ্যমে আমরা সে পণ্যগুলোর তথ্য অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারি। এমন পণ্যগুলোর সম্পর্কে ই-কমার্সের মাধ্যমে আমরা অতি সহজেই জানতে পারছি এবং অনেক অজানা পণ্য ও সেবা সম্পর্কে নিত্য নতুন তথ্য পাচ্ছি। ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দূরত্ব অনেক বড় একটি বিষয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোন মানুষের যদি কোন পণ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে রাজধানী ঢাকায় এসে সে পণ্যটি ক্রয় করা তার পক্ষে যতটা কঠিন ছিল, এখন সেই পণ্যটি ক্রয় করতে পারেন তিনি অনায়াসে, ই-কমার্স এর সুবাদে। ই-কমার্স এর মাধ্যমে এসব মানুষের জন্য নতুন এক দ্বার উন্মোচন হয়েছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের পরিধি আজ বিশ্বময় বিস্তৃত। কয়েক দশক আগেও বিশ্বের এক দেশের সাথে অন্য দেশের ব্যবসা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। আর এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। প্রথাগত ব্যবসার বাইরে ই-কমার্স এর প্রচলন ঘটেছে। বিশ্বের এক প্রান্তের কোনো ক্রেতা তার ঘরে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো পণ্যের অর্ডার দিতে পারেন এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উক্ত পণ্য ক্রেতার ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশাল পরিমাণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখন অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। সমগ্র বিশ্বের ক্রেতারাই এখন বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযুক্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে গড়ে উঠছে বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ।
জাতীয়/রাজস্ব অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এখন কেবল আর পণ্যের বাজার নিজের দেশের গণ্ডির মধ্যে রাখলে চলবে না, একে তুলে ধরতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তবেই সৃষ্টি হবে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে করে বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। প্রযুক্তি শেয়ার ও স্থানান্তরের মাধ্যমে উন্নত হবে শিল্প কারখানাগুলো। এ লক্ষ্যে আমাদের দেশেও স্থাপিত হয়েছে Export Processing Zones (EPZ)। এখানে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক মানের হয়। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের সকল ব্যবস্থা। সৃষ্টি হয়েছে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের।
গ্রীন লাইফ (Green Life) কিভাবে কাজ করে ?
মুলত, গ্রীন লাইফ হচ্ছে আমাদের দেশের পরিচিত একটি ই-কমার্স অর্থাৎ গ্রাহক এবং বিক্রেতার মধ্যস্থতাকারী । এটি বিভিন্ন পণ্য গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা আমাদের গ্রাহক কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা/পণ্য সমূহ তাদের নিকট পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। সকল পণ্য আমরা বিক্রেতার নিকট হতে আমাদের ওয়ার-হাউসে এনে সেগুলোকে পরিক্ষা করেই আমাদের সম্মানিত গ্রাহক বৃন্দের নিকট প্রেরণ করে থাকি। এবং, এভাবেই আমরা নাম মাত্র মুনাফা করে থাকি।
তা ছাড়াও আমাদের নিজেস্ব কিছু পণ্য এবং সেবা রয়েছে যেগুলো আমরা আমাদের সম্মানিত গ্রাহকের নিকট বিক্রয় করে থাকি। আমাদের আরো কয়েকটি খাত দেশ উন্নয়নের লক্ষ্য নিজে সারা দেশব্যাপী নিরলস ভাবে কাজ করছে। আমাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব এবং বেকারত্ব মুক্ত দেশ গড়া।
Green Life বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করলেও Green Life -এর মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের দারিদ্র-বিমোচন, পরিবেশকে সজীব রাখা এবং বেকারত্ব দূরীকরণ। যে সকল সম্মানিত গ্রাহক বৃন্দ আমাদের সেবা নিচ্ছে তথাপি আমাদের সাথে আছে তাদেরকে জানাই আন্তরিক শুবেচ্ছা এবং অভিনন্দন। সম্মানিত গ্রাহক বৃন্দের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আমরা আমাদের আয়ের একটা অংশ দেশের গঠন মুলক কাজে ব্যবহার করি। তাই আমাদের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আপনাদের নিকট আমরা দ্বায়বদ্ধ এবং আপনাদের নিকট আসা রাখছি, অবশ্যই আপনারা গ্রীন লাইফের অগ্রযাত্রায় নিজেদের ভুমিকা প্রকাশ করবেন।
